Saturday , December 5 2020
Breaking News
Home / ইসলামিক / চিরস্থায়ী ঠিকানা হলো আখিরাতে

চিরস্থায়ী ঠিকানা হলো আখিরাতে

প্রিয় বন্ধুগণ একটা কথা ভুললে চলবে না যে, আমরা এই পৃথিবীতে অল্প কিছুদিনের জন্য । চিরস্থায়ী ঠিকানা হলো আখিরাতে । দাদা গেছে নানা গেছে কেউ তো ফিরে আসেনি । আখিরাতের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করুন । দুনিয়ার সব কিছু দিয়ে আখিরাতকে কিনে নিন । দুনিয়ার লোভ লালসা করে লাভ নাই । দুনিয়ার কোন কিছুই আখিরাতে নিতে পারবেন না, শুধুমাত্র ঈমান এবং নেক আমল এবং বদ আমল সাথে যাবে। সবাই নিজের চিন্তা করুন কিভাবে exit হবে । নিজের জন্য নেক আমল সংগ্রহে প্রতিযোগিতা করুন । আজকে আমলের সুযোগ আছে । হিসেব নাই । কালকে আমলের সুযোগ থাকবে না । হিসেব দিতে হবে । সুতরাং আজকে বসে থেকে কি লাভ? এক মিনিট সময় নষ্ট করার জন্য ও একদিন কাঁদবেন । ঐ কান্না কোনও কাজে আসবে না ।

 

 

 

 

 

আজকে আমল করলে কালকে আর কাঁদতে হবে না । কালকে হাসবেন, চিরকালের হাসি । আখিরাতের জীবন উত্তম এবং চিরস্থায়ী । যেই কাজগুলো করবেন আখিরাতের জন্য : আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করবেন । নামাজে যত্নবান হবেন । ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন । জুলুম হতে দূরে থাকবেন । আল্লাহর রাস্তায় দান করবেন সুখে দুঃখে । সব সময়ই জিকিরে রত থাকবেন, জিকির হলো সব চেয়ে সহজ এবং খুবই লাভজনক আমল; “সুবহানাল্লাহ” বলবেন অর্থ মহান আল্লাহ পাক পবিত্র, সকল দোষ ক্রটি হতে । বলবেন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনও সত্য মা’বুদ নাই । বলবেন “আলহামদুলিল্লাহ” অর্থ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, বলবেন “আল্লাহু আকবার” অর্থঃ আল্লাহ সব চেয়ে বড় ।

 

 

 

 

 

বলবেন “আসতাগফিরুল্লাহ” অর্থঃ মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি । বা দরুদ পড়বেন । বা সব সময়ই সূরা কুল হুয়াল্লাহু আহাদ পড়বেন । জিকিরের জন্য অযুর ও দরকার নাই । সব সময়ই অযু থাকলে খুবই ভাল । দাঁড়ানো, বসা, শোয়া সর্বাবস্থায় জিকির করা যায় । তাই সব সময়ই জিকির করুন । কারণ লাইফ তো চলে যাচ্ছে । বরফের মতো গলে যাচ্ছে জীবন । খুবই সট জীবনটা । নুহ আঃ নয়শত পঞ্চাশ বছর হায়াত পেয়েছে, তাকে কেউ জিজ্ঞেস করছে আপনি কেমন ফেলেন এতো লম্বা হায়াত ? তিনি বললেন এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করছি , অন্য দরজা দিয়ে বের হয়েছি ! তাহলে আমাদের জীবনের কথা চিন্তা করুন! সৎকাজ নিজে করুন এবং অন্যেকে সৎকাজের আদেশ করুন ভদ্রভাবে । অসৎ কাজ হতে নিজে বিরত থাকুন এবং উত্তম পদ্ধতিতে অন্যেকে বিরত রাখুন । নিজে বিনয়ী হোন, রাগকে দমন করুন । কখনো মহান আল্লাহ কে ভুলবেন না ।

 

 

 

 

 

 

মনে রাখবেন আপনি শুধুমাত্র মহান আল্লাহর দাসত্ব করার জন্য । মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির অর্জনের জন্য নিজেকে সদা প্রস্তুত রাখবেন । সর্ব বিষয়ে মহান আল্লাহর উপর ভরসা রাখবেন । মহান আল্লাহ কে ভুলবেন না, ভুলে গেলে সাথে সাথে স্মরণ করবেন । আমানতের খেয়াল রাখবেন । ধৈর্য শীল হবেন । চোখের খেয়ানত হতে বাঁচবেন । আল্লাহর সাহায্য সব সময়ই চাইবেন । আত্মীয়দের সেবা করবেন । প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করবেন, প্রতিবেশী কে কষ্ট দিবেন না । প্রতিবেশী কষ্ট দিলে ধৈর্য্যধারণ করবেন । যারা মহান আল্লাহ পাক কে ভয় করে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবেন । ছেলে মেয়েদের জলদি বিবাহ দিয়ে দিবেন উপযুক্ত দ্বীনদার পাত্র পাত্রী পাইলে । আর শেষ রাতে উঠে মহান আল্লাহর দরবারে দুই চার রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে কান্না করবেন । নিজের জন্য এবং সমস্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য এবং সমস্ত মানবজাতির জন্য, সব অভাব অভিযোগ মহান আল্লাহর কাছে রাখবেন । অহংকার যেনো কখনও আপনার মধ্য না আসে । নিজের সংশোধনের জন্য এবং আমলের অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য আলেমদের নিকটে যাবেন। এবং প্রত্যেক দিন পবিত্র কুরআন পড়বেন । জবানের হিফাজত খুব জরুরি ।

 

 

 

 

 

অশ্লীলতা এবং নির্লজ্জ কাজ হতে দূরে থাকবেন । কম খাবেন এবং কম কথা বলবেন । আল্লাহকে ভয় করবেন । নবী স এর সুন্নত গুলো খুঁজে খুঁজে আমল করবেন । ছেলে মেয়েদের নামাজী বানাবেন । যদি পারেন প্রতি সপ্তাহে সোমবার এবং বৃহস্পতির বার রোজা রাখবেন । এই জিনিস গুলো আমল করলে আশা করা যায় আল্লাহর কাছে মাফ পাবেন এবং পাবেন জান্নাত এবং পাবেন জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি । মহান আল্লাহ পাক আপনাদের জীবন সার্থক করুক ।

About noman munshi

Check Also

কোয়ারেন্টাইনে পুরো কুরআন মুখস্ত করলেন ৬ বছরের হুনাইন

মাত্র ৬ বছরের কন্যা শিশু হুনাইন মুহাম্মাদ হাবিব। আলহামদুলিল্লাহ! এ ছোট্ট বয়সে পুরো কুরআনুল কারিম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *