Saturday , December 5 2020
Breaking News
Home / News / রংপুরে সংঘবদ্ধভাবে কিশোরী ধর্ষণে এএসআইয়ের সম্পৃক্ততা আদালতে স্বীকার

রংপুরে সংঘবদ্ধভাবে কিশোরী ধর্ষণে এএসআইয়ের সম্পৃক্ততা আদালতে স্বীকার

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর প্রতিনিধিঃ রংপুরের হারাগাছে পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলাম ওরফে রাজু’র নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত ২ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণে ওই এএসআইয়ের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

 

আদালতে ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী বুধবার বিচারকের সামনে জবানবন্দী দিয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে অভিযুক্ত এএসআই রায়হানুল ইসলাম ওরফে রাজুকে গ্রেফতার করে মেট্টোপলিটন পুলিশ লাইন্স থেকে নগরীর পিবিআই কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

 

মঙ্গলবার ভোরে লালমনিরহাট সদর এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া মামলার আসামী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন (৪০) ও আবুল কালাম আজাদকে (৪২) বুধবার দুপুরে রংপুর অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নেয়া হয়। এরপর ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীকেও আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে বিচারক কিশোরীর জবানবন্দী নেন।

 

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, বুধবার ধর্ষিতা ওই কিশোরীকে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছিল। সে বিচারকের সামনে জবানবন্দী দিয়েছে। আরও দু’জন আসামীও আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। তারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া ধর্ষিতা ওই কিশোরীও বাবুল ও আজাদের সংশ্লিষ্ট থাকার কথা জানিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ধাপে ধাপে তদন্ত করে এ মামলায় অগ্রসর হচ্ছি। আদালতে নেয়ার আগে আমরা ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে জানিয়েছে, এএসআই রায়হানুল ইসলাম ওরফে রাজুর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে ওই পুলিশ সদস্যের নাম রায়হানুল না বলে রাজু বলেছে।

 

গত ১৮ অক্টোবর ক্যাদারের পুল এলাকার বাসিন্দা আলেয়া বেগম ওরফে সুমাইয়া আক্তার মেঘলার বাসায় ওই কিশোরী ও রায়হানুল আসে এবং শারীরিকভাবে মেলামেশা করে। এরপর সেদিন সন্ধ্যায় রায়হানুল মোটরসাইকেলে করে ওই কিশোরীকে তার বাসায় পৌঁছে দেয়।

 

ওই কিশোরীর মা মেয়ের সাথে রাগারাগি করলে ওইদিন রাতে কিশোরী মেঘলার বাড়িতে এসে রাত যাপন করে। পরদিন সকাল সাড়ে ১০টায় মেঘলা ও তার সহযোগি সুরভি আক্তার সমাপ্তি বাবুল ও আজাদকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে এবং তারা জোরপূর্বক ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করায়। এটি আমরা জবানবন্দীতে পেয়েছি। একই কথা বাবুল ও আজাদ আদালতে বলেছে বলে জানতে পেরেছি।

 

অভিযুক্ত এএসআই রায়হানুল ইসলাম ওরফে রাজুকে এক নম্বর আসামী না করে মেঘলাকে এক নম্বর আসামী করার বিষয়ে তিনি বলেন, এজাহারে দু’নম্বর আসামী হলেই যে সে পার পেয়ে যাবে এমন সুযোগ নেই। অপরাধী হলে এক নম্বর হোক কিংবা পাঁচ নম্বর হোক যথাযোগ্য শাস্তি পাবেই।যেহেতু ওই এএসআই পুলিশের সদস্য ও ইউনিফর্ম সার্ভিসে আছে। তাই আমরা বিষয়টি নিখুঁতভাবে তদন্তসহ কোনভাবে সে যেন ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে সেদিকে আমরা অগ্রসর হচ্ছি।

About noman munshi

Check Also

এবার প্রকাশ্যে, কিভাবে এসআই আকবরকে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে পালানোর

সিলেটের বন্দরবাজার পু’লিশ ফাঁড়ির এসআই আকবর। সিনেমা’র নায়কের মত চেহারা দেখতে হলেও তিনিই এখন হয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *